"আমার ব্যস্ততা ক্রমশ শেষ হয়ে আসছে, বাড়ন্ত দুপুরে ঘেরা গল্প গুলো ফিকে হয়ে গেছে। সকালের পাখিরা, ডেকে, ডেকে ফিরে গেছে, বেলা শেষে, পড়ে থাকা বিচ্ছিন্নতাগুলো, চমৎকার ডানা মেলে, কুড়িয়ে নিয়ে গেছে, পরিযায়ী পাখীর দল। যানযটে, শুয়ে আছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সভ্যতা, উন্নয়ন বৃক্ষ কেটে গোড়াটি রেখে গেছে, কোন এক সাহসী বনদস্যু। পার্কের মলীন ঘাঁসে আকাশের দিকে তাকিয়ে শুয়ে আছে, প্রতিভাবান ব্যর্থতার সুখ। স্বপ্নের বিমর্ষতা আজ, পড়ে আছে। প্রতিদিন হৃদয় ভাংতি করে, খরচ করে চলেছি ভালবাসা, তবুও আমি দরদাম করে চলেছি, তোমার অস্তিত্তের। বাতাসের গোয়ার্তুমি দেখে, আসন্ন সন্ধ্যায় লাল হয়ে গেছে, মুখটা তোমার, যা দেখে মূর্খ হৃদপিণ্ড আমার, হঠাৎ স্থির হয়ে গেছে। আগুনের কাছে উষ্ণতা চেয়েছি, পালকের নিচে যেই উষ্ণতা 'মা 'পাখিটা লুকিয়ে রাখে। আমার আকাশ আজ, ঝুলে আছে, বুকে নীল বেদনা নিয়ে। এখানে গাছেরা, পাতারা, ফুলেরা, প্রজাপতি ও পাখিরা, দিনরাত আমাকে জড়িয়ে রাখে। তাই আজ আমি, ধারণ করেছি, যৌবনের গোপন স্ফুলিঙ্গে অস্তিত্বের অবেশ। তোমার ভালোবাসার শক্তি আজ, ন্যানো হয়ে থেকে গেছে, ব্যাস্ত শহরের ধনী-বাড়ীর ড্রয়িং রুমের শো-কেসে। আমিও তোমার কফি'মগে' ডুবন্ত মাছি হয়ে, ভালোবাসায় গুনগুন করেছি, তোমার ঠোঁটে, কানে,অন্তরাত্মার দেয়ালে। এই করুণ সত্যকে, ফেসবুক স্ট্যাটাসে দিয়ে, লাইক বাড়িয়েছো, আর্থ-সামাজিক, নাগরিক তত্ত্বে, প্রেমকে তুলেছো শেয়ার বাজারে। অথচ, মহাকালের দেয়ালে তোমাকে আঁকার জন্য দাঁড়িয়ে আছি, নগর-নষ্টামীর বাইরের প্রাকৃতিক অরণ্যে। এখানে একটি জোনাক পোকাও স্বীকার করে না, নগরশ্রেষ্ঠত্ব। তোমার আদিম প্রকৃতি, প্রতিদিন আমাকে শিখিয়ে চলেছে, ভালোবাসা। দিগন্তের কাছে, চিৎকার করে বলেছি ‘ভালোবাসি’। তোমার কাছে ফিরে এসে ছুঁইয়ে যাবো, ভালো লাগার প্রসস্থ হাত। তৃষ্ণার্ত পাখি হয়ে, এক নদী জল দিয়ে, রাঙিয়ে চলেছি, নিজেরই প্রসস্থ ডানা।"----ধূসর সীমান্ত"
