"যে মেঘ জমে থাকে ঘুমের কপালে, আমি তার নিদ্রাসঙ্গী হয়ে দেখে চলেছি সুখস্বপ্ন। পথে প্রান্তরে, বর্ষার ছাপ রেখে চলেছি। উড়ে চলা মেঘের ছায়ায় দেখেছি, তোমার রূপের কারুকার্য। আমাকে পিছু ফেলে চলে গেছে, চিরকালীন ফালগুন। তাকে দেখে হয়ে গেছি, বিধ্বস্থ ফুলের কাঁটা। নবীন ভুলের পাশে সারা রাত জেগে, হয়েছি আমি, নিশাচর। শুধু চেয়েছি, হিজল বন তোমার জন্য সংরক্ষিত থাকুক। এই বনজ সবুজ আভায়, তুমি ছায়া হয়ে থাকবে, আমার হেঁটে চলায়। তোমার কন্ঠে পরিয়েছি শিশিরের মালা। একগুচ্ছ নীলকণ্ঠির ঝলকে, উজ্জল হয়ে উঠেছে, শীতলক্ষা নদী। তোমার আগমনী বার্তা, পড়ন্ত বিকেল হয়ে ঘরে ফিরবে। জ্বলকণা নিয়ে যদি পরিযায়ী মেঘেরা ফিরে আসে, আমি সরিয়ে নেবো, আমার স্থাপনা, ভোরের ব্যাস্ততা, সুরেলা দুপুর, সরিয়ে নেবো নদী, পাথরের অপ্রতুলতা। দূরের স্মৃতিতে ভাঁসিয়ে দেবো, নৌকার ছবি, কাগজে আঁকা, নিয়তির মেঘ। ধ্রূব বাতি হারিয়ে ফেলা জাহাজ, যেভাবে গন্তব্যের খোঁজে পাঠায় শেষ সংকেত, সেভাবেই মাটির কাছে রেখে যাবো, আমার অস্থিরতা গুলো। উড়ে চলা গাংচীলের পালকশূন্য পৃথিবীর গায়ে, লেগে আছে আমার শান্ত অনুভূতিরা। তোমার মনের বিহ্বলতা একদিন দিয়ে যাবে, গোপন ছোঁয়া। চৈত্রের ভিজে দুপুরে পৃথিবীর পথে, ছড়িয়ে যাবে শেষ কথা গুলো। আমি রেখার পার্থক্য খুঁজে দেখতে চেয়েছি, তোমার চিবুকের ভাঁজে। আরেকটি ভূগোল পেরিয়ে, আমি তাকিয়েছি, এক সারি নক্ষত্রের দিকে। জীবনের গল্প লিখবো বলে, পেতে চেয়েছি ঘাঁসফুলের ঘনিষ্ট সান্নিধ্য। তবুও, সন্ধ্যে নিভে গিয়ে, রাত্রি নেমে আসে, আমার নীলাভ স্বপ্নের পৃথিবীতে"----"ধূসর সীমান্ত"
