"দীর্ঘ ঘুম ভেঙেছে আমার' পৃথিবীর নিমন্ত্রণে, তাই বসে আছি প্রতীক্ষায়, বিবর্ণ হৃদয়ে রঙ মেখে, স্নিগ্ধতার নীল ছোঁয়ায়। শান্তির অন্বেষণে, আমার চোখের পাশে বিষন্ন এক সন্ধ্যাতারা জেগে উঠেছে। আমি শব্দহীন, দৃষ্টিসর্বস্ব হয়ে গেছি, যেন কোনো প্রাগৈতিহাসিক দলছুট মায়া হরিণ দেখে, হাত থেকে খসে যায় পাথরের বর্শা!'' জন্ম-জন্মান্তর পাড়ি দিয়ে নিজেকে খুঁজে পাই, বাক্যহীনতায়। আমাকে ভীষণ একাকীত্ব দিয়ে চলেছে তোমার অনুপস্থিতি। এসো আমাদের নিজস্ব অগ্নিগিরি বের করি, উত্তপ্ত করি ভালোবাসার হিম শীতলতা। আজ, ষড়যন্ত্রের গন্ধে বিবর্ণ আকাশের নীল ক্ষুধা আর নিদ্রার অমোঘ আলিঙ্গনে, বহুরাত্রে বাড়িফেরা কর্মহীন যুবকের মতো, ফিরে আসি স্বপ্নের সেই পুর্ণিমা আলোয়। দিগন্ত বিস্তৃত চাঁদের রাজত্ব গ্রাস করে, উঠে আসা পুর্ণিমার দ্যুতি। পৃথিবীর বিশালত্ব বিসর্জন দিয়ে আজ আমি তোমার চোখের স্নিগ্ধ আশ্রয়ে, আগুনমুখী পতঙ্গের মতো মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে চলেছি। সমস্ত মত্ততা কাজলের মতো মুছে গেছে। আমার তৃষ্ণার জল ঠোঁটে নিয়ে উবে গেছে, মিশে গেছে দূর আকাশের বিবর্ণতায়। কুয়াশার ধুম্রজালে, বিমূর্ত রাত্রি এঁকে চলেছি, সময়ের ক্যানভাসটাকে রঙ্গিন করে। যেন শত শতাব্দী ধরে আকাশকে দেখছি প্রতীক্ষার নক্ষত্র চোখে। আমার রক্তে ভেজা, অজস্র অস্থিরতাদের সঁপে দিয়েছি, তোমার আকাশভরা রংধনু মেঘে। আমার সুপেয় মগ্নতা, চলে গেছে বাষ্পের সাগরে...। ভালো থেকো তুমি, আমার ভালো নাথাকা জুড়ে। তোমাকে ভালবাসি' এই অপরাধে, ছোট হতে, হতে মিশে গেছি মাটির ভেতরে, কখনো বাতাস উড়িয়েছে আমায় ধুলো ঝড়ে। জলীয় ফাঁদে, প্রেমহীন জেলেদের ঘরে শুঁটকি হয়ে রোদে শুকিয়ে যাচ্ছি। প্রলেপে-প্রলেপে, তোমার মাটিঘরে মিশে যাবো একদিন। তোমার হাতের যত্নে, জলের বিমর্ষ শব্দে, রৌদ্র পোড়া ধুধু মাঠের একলা গাছে, ভালবাসা হারিয়ে ফিরে এসেছি, নতুন ঠিকানায়। তোমার জন্য কান্না জড়ানো খামে লিখে রেখেছি নীল চিঠি। সাগরদীঘির জলের মতো শান্ত পরিযায়ী পাখির মতো আমার অতীত খোলস নিয়ে বিচিন্ত মনে, ধূসরতার স্বপ্ন বুনে চলেছি"..----"ধূসর সীমান্ত"
