"অনেক কাল ধরে নিজেকে অন্ধ ভাবি। নিঃশব্দের আড়ালে, ভেতরের জমে থাকা অনুচ্চারিত শব্দ দিয়ে, তোমার জন্যে লিখে চলেছি, আমার না-বলা-কথা গুলো। ইদানীং আমি হাওয়া হয়ে ভেঁসে বেড়াই, অনুভুতিকে ছুঁইয়ে। বৃষ্টির শীতলতায়, নিজেকে ভিজিয়ে ফেলি। এখন আমি অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করি, তোমার নিবেদিত প্রেম কে। এখানে ভোর রাত্রে, কুয়াশার কোল চিরে, হুইসেলের শব্দে ট্রেন থামে। ভিঁড় নেই যাত্রীদলে, নিঃশ্বাসের শব্দে স্বপ্নকে পুড়িয়ে, দূরের ছায়ায় ঘাঁস ছিঁড়ে, বিবর্ণ জোনাকিরা ঘুমিয়ে পড়ে। ভোরের শরীরে আজ ভৈরবী স্বপ্ন, সপ্তবন্ধ গানের কারুকার্যে, মাতাল আমি। বুকের গভীরে, নীল সমুদ্র ডেকে চলেছে অবিরত। সময়ের স্রোতে বৃত্ত-বন্দী আমি, সভ্যতার সমবয়সী গোলক ধাঁধায়। আমিও সেই সময়কে পাশকাটিয়ে হতে চলেছি অমর। এখন আমি, ক্ষমাহীন, ক্ষয়হীন, বিরতিহীন। শুধু মুখোশ বদলে, শতাব্দীর বিশৃঙ্খলা ভেঙে, ফিরে আসি। শান্ত সময়, জড়িয়ে রেখেছে আমার মমিকৃত মুখ, তোমার চিরলাল ঠোঁটে। কিছুই নেই এখানে, শুধু শূন্যতা, স্থির হয়ে আছে। বাঁধানো ঘাটের টানে, অস্থির মনের ছায়ায়, ঝরে গেছে দিন আমার। সন্ধ্যা জ্বেলেছি ধীরে, সবুজ ঘ্রাণে, লোকালয়, আঁধার অস্বীকার করে, বাঁধের ভাঙনে। দিনলিপি জুড়ে শুধু পড়ে আছে, ঝরা পাতার হাহাকার। অজস্র স্মৃতি বুকে নিয়ে তোমার অপেক্ষায় থাকি, শূন্যতার পৃথিবীতে"----"ধূসর সীমান্ত"
