"প্রতিদিন হৃদয় ভাংতি করে দু’হাতে খরচ করে চলেছি। ফতুর হতে গিয়েও কিনে ফেলি, তিব্র বাতাসে গোলাপের পাপড়ির আলোড়ন, উড়ে চলা পাখির ছায়া। আমি দরদাম করে চলেছি বিজন মেঘের ভেসে চলা, রংধনু রঙের বিকেল,রক্তকরবীর বুকে শীতলতার। দুধেল ধানের বাকলে সবুজ ঘাস ফড়িং, শোকাতুরে মনে ন্যুব্জ হয়ে আছে, ভাঙ্গন প্রবণ নদীর কিনারে। পড়ে থাকা ছাইয়ের গাদায়, পাখির ভাঙ্গা ডিম, কুড়িয়ে নিয়ে গেছে আরেক কিশোর। এখনও খুঁজে ফিরি, হারানো কৈশোরের পাশে মৃত সময়ের মুখচ্ছবি। এখনও লুকিয়ে রাখি, অঙ্কিত আঁধারে বসন্তবিহীন বিমূর্ত কোকিলের ডাক। অস্থিরতা গুলো, পেয়ে গেছে আজ নিজস্ব ছায়ার সন্ন্যাস। আগুনের কাছে চেয়েছি উষ্ণতা, পালকের নিচে যেমন উষ্ণতা মা পাখিটা লুকিয়ে রাখে। অরণ্য ও পাহাড়ের সবুজ বাতস ভাসিয়ে, কচি পাতারা, আগে কখনও নোঙর করেনি আমার চোখে। অনুভবের চোখে দেখেছি, এখানে প্রতিদিন গাছেরা, পাতারা, ফুলেরা, প্রজাপতি ও পাখিরা আমাকে জড়িয়ে রাখে, গুঞ্জরিত গানে। ঘুমের ভেতর আজও মিথ্যে স্বপ্ন দেখি, এই মিথ্যে আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে বর্ষা ও বসন্তে। দিন যায়, করুণ শব্দে, সবুজে হলুদাভ পাতারা ঝরে পড়ে। আমিও ধারণ করেছি, যৌবনের গোপন স্ফুলিঙ্গে অস্তিত্বের অবশেষ। এ সত্য প্রকৃতি আর আমি ছাড়া কেউ জানবে না কখনো। প্রকৃতি প্রতিমুর্হূতে আমাকে শিখিয়ে চলেছে 'ভালোবাসা' তোমাকে ভালোবাসবো'' এতোবড় দিগন্ত এই ভিজে শহরে কোথায়?" এখানে লাইনম্যান নেই, তবুও নিজ দায়িত্বে করে চলেছি জীবন পার। প্রায় প্রতিদিনই, ধূসরতায় হাতড়ে ফিরি, অস্তিত্ব আমার"---"ধূসর সীমান্ত"
