ফেনায় দুলছে স্বপ্নতরঙ্গ, সুদূর আচ্ছন্নতায় ডোবা মন নিয়ে, নিঃশব্দে নৈশপ্রহরীর সন্ধানী চোখে, ভেসে যায় জলকল্লোলে,তরল রাত্রি আমার। আমার গোপন অস্তিত্বে, বিদ্যুতায়িত স্বপ্নভঙ্গের জলছাপ। খুব দম টেনে টেনে, হাওয়ায় ভর দিয়ে ভেসে, ফিরে আসি একদিন, মাস্তুল বিহীন, ডুবন্ত জাহাজের নাবিক হয়ে, নোঙর ফেলা ভোরে। টিম-টিম ঝোলান লণ্ঠনের আলোয়, ভেঙ্গেছি, নুয়েছি আর মিশেছি। দক্ষিণ মেরুর হাওয়ায়, ঝুর ঝুর করে ভেঙ্গে গেছে জীবন আমার। আমাদের প্রত্যক্ষ সম্বন্ধ বেড়ে উঠেছিলো এভাবেই, যেভাবে পাঁজরবিহীন কোনো সূর্যাহত কৃষক সন্তান, বেড়ে ওঠে সমান্তরালে। বৃষ্টিছন্দ মাড়িয়ে এসে, মাটির প্রচ্ছদে এঁকে যাই, নিজেরই জীবন প্রতিচ্ছবি। কবি হলে হয়তো লিখে যেতাম বিরহের কবিতা, কষ্টে জড়ানো জীবনের ইতিকথা, বন্দনার দগ্ধ বিধুরতা ও ছাদহীন,চাঁদহীন শৈশবের পথ ধরে গড়ে ওঠা প্রথার বিরুদ্ধে শব্দের সন্ত্রাস। এখানে কেউ খুব দীর্ঘসময় থাকে না। এতোটুকু সময়েও, কেনো এত দুঃখ দাও?" দীর্ঘ মনঃস্তাপ, দীর্ঘভার সমুদ্রস্নানে, দেহে বেড়ে গেছে ক্লান্তি গুলো। শুধু ঠোঁটে পাই সেই নোনতা স্বাদে, কিছু ঢেউয়ের, ছেড়ে যাওয়া লবণাক্ত চোখের সৈকত। সূর্যোদয়র সমুদ্রে, বেড়ে চলা জোয়ারের জলে, পাই শেষ বিকেলের প্রতিধ্বনি। বাতাসের বোঝাপড়ায়, তীব্র ঝড়ে উবে যাবো একদিন। বাহুতে ডানার কাঁপনে মেঘ সরিয়ে বালিতে পরবো লুটিয়ে। আনন্দের উত্থান দেখেছি, ঢেউয়ের মননে। ইতি টেনে এসেছি মৌন বৈভবের।কালের কলতানে হারিয়ে গেছে যে গান, তারও স্বরলিপি খুঁজে নিয়ে, বাজিয়ে চলেছি এস্রাজ। প্রায় প্রতি ভোরে যে পাখি পালক ফেলে যায়, আমি সেই আহত পাখিদেরই একজন। প্রাণের আগুনে জ্বালাই সলতের সুতো। উড়ে যাই, মেঘনার বিমুগ্ধ মোহনায়, দেখে নেই, মনপাখিটার শেষের সন্ধ্যায়, ডুবন্ত সূর্যের সাথে, মিলিয়ে যাওয়া"----"ধূসর সীমান্ত"
