"অনেকটা দূর থেকে দেখা হয়েছিলো আমাদের। মনের আলো' চলে গেছে প্রথম হাওয়ার অভিমানে। রেলিঙ্গের গ্রিলটা ধরে দাঁড়িয়ে দেখছি, হাওয়া ভেসে উড়ে চলা চড়ুইপাখি। কফি রঙের ফিঙে মেঘ, আমায় ছুঁয়ে চলে গেছে, বৃত্তের মতো শরমী চাঁদের দিকে। ছবি আঁকতে আঁকতে থেমে যাই ডাহুকের ডাকে। নগ্ন মেঘেরা দাঁড়িয়ে আছে, তোমার বেসামাল ঠোঁটে। মাঝে মাঝে ভুলে যাই ফিরে আসা। লবঙ্গীর বনে নড়ে ওঠে একটা পোড়ানো নিলয়। করতোয়া নদীর গল্পে, মগ্ন পাঠক হয়ে জেগে থেকেছি' গভীর রাতে। অজস্র মিথ্যের মন ভোলানো রূপ বিশ্বাস করেছি। ইদানিং অর্থহীন ক্যালিগ্রাফিতে ভরে যাচ্ছে, সাদা পৃষ্ঠার ক্যানভাস গুলো। অলস দুপুর হেঁটে চলে গেছে, নিরুদ্দেশে, সন্ধ্যে হলেও ফেরেনি ঘরে। দুপুরের মতো বেড়াল পায়ে বিকেলগুলোও চলে গেছে, শহর ছেড়ে। কখনও কি দেখা হবে?" কী ভীষণ নস্টালজিক এই রাত্রির গহীন অরণ্য। বুকের গভীর থেকে বেরিয়ে আসে সকরুণ দীর্ঘশ্বাস। ঘাসের উপর খোলস বদলানো একটি গোখরা বীভৎস সুন্দর, রচনা করে চলেছে। ধোঁয়ার মতো ধূসর শূন্যতায় ভরা নির্জনা এই রাত্রির কালোমাটির ভূ-খণ্ডে, আমি বিলীনের পথে। অদূর অদৃশ্য থেকে ভেসে আসে, শেয়ালের অতৃপ্ত কোরাস। অতৃপ্ত প্রেতাত্না হয়ে ফিরে আসি পৃথিবীর অন্ধকারের অভ্যন্তরে। স্বপ্ন ভেঙে যায় ধুলো হয়ে, রাতের গভীরে তীব্র যন্ত্রণা হয় হাড়ের ভেতর। নিষিদ্ধ এক গল্পে, ছবি হয়ে চলতে থাকি শূন্যপথে। নৈঃশব্দের নীল আগুন ছড়িয়ে পড়ে শরীরের কোষে কোষে। চেতনার আকাশ জুড়ে ধুলোর মেঘে, শব্দ নেই, বর্ণের ছোঁয়া নেই। মরা মাছের মতো ভেসে থাকি জলের উপরে,শুয়ে থাকি, অন্ধকারের অতৃপ্ত আত্মা হয়ে। স্মৃতি ভুলে যাওয়া অলস দুপুর, নীলাকাশ বিকেলে, ফেরে না কেউ আর। আমি শুধু অমাবস্যার রাত জেগে ডায়েরীর পাতায় লিখে রাখি, হলুদ হরফের অস্থিরতা দের। স্মৃতি-বিস্মৃতির ভার বহন করতে করতে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে গেছি"--"ধূসর সীমান্ত"
