"ভেতরের না-বলা কথাদের নিয়ে ভেঁসে চলেছি অষ্টাদশী চন্দ্রজলে। মাঘী-জ্যোৎস্নায়, কেঁদে ফিরেছি, নীল রঙের শূন্যতা নিয়ে। কদম ফুলের আবেশ জড়ানো মৌহে ছেড়েছি ঘর। পথে-পথে ঘুরে, এসেছি প্রান্ত বেলায়, সঞ্চয় করেছি, ভাঙা মনের, টুকরো টুকরো অবসাদ। তবুও হয়নি জানা, তোমার শরীরের অপার্থিব মায়াছল। ভেতরটায় না-বলা অনুভূতি নিয়ে, জ্বলে চলেছি, রণদীপে বেঁধেছি প্রাণ। হৃদয়ে জমে থাকা দুঃখরাগ, ঝরে গেছে, সপ্তসুর থেকে। হারিয়ে যাওয়া বিমূর্ত স্মৃতিতে, কাজলের মায়াছলে অংকিত হবে, আমার সমাধির কালো ছক। নীল কষ্টেরা, ওপারের আকাশে নিয়ে যাবে, মৃত্যুবতী অচীন মৃত্তিকায়। কোনোদিনও জানবে না, আমার মনের তৃতীয় মৃত্যুর কথা। জীবনের পতনযাত্রায়, জ্যোৎস্নাধোয়া জল গরাতে থাকে, দারুচিনি দ্বীপের কান্নায়। ডাহুকের ডানা ছুঁয়ে রাত্রি নামে। নিঃশ্বাসের নদীতে জ্যোৎস্নাবতী রাত, ডুবসাঁতার খেলে। শিরোনামহীন অজস্র কবিতার পংক্তি, বৃন্ত থেকে খসে পড়েছে। আমি সেই রাত্রি চেয়েছি, যে রাত্রি, সব কলমের কালি চুষে, তার রহস্য ছড়াবে, পাথর অন্ধকারে। রাতজাগা এচোখে অন্তহীন তৃষ্ণা মেটাবে। রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট গুলোকে, একনিঃশ্বাসে নিভীয়ে দেবে। হিজল বন, শতাব্দীর বিচ্ছেদ ভুলে, হাতে তুলে দেবে, আজন্মের অমৃত সুধা। অস্থিরতা গুলো, আরো একবার ভেঁসে যাবে, আকাশ-সমুদ্রের মিলন স্রোতে। সময় চলে গেছে ভাটিয়ালী দ্বীপে, যেখানে মুখ গুজে পড়ে থাকে, মৃত ঝিনুকের কষ্টেরা। স্বপ্নের শ্বেতকরবী ঝরেযায়, মহাশূন্যের পথ ধরে। ডানাভাঙা মনফড়িং, আশ্রয় খুঁজে চলে, গলতে থাকা নগ্ন পাথরে। স্বপ্নের রঙে, ভাঁসে যাবো, নিশিজোয়ারে। শতাব্দীর মাঝরাতে ঘুম ভেঙে দেখি, মনের চোরাবালিতে, এখনও সাঁতার শেখা হয়নি"----"ধূসর সীমান্ত".
